একসময় দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন অঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন অভিনেত্রী কিম সে–ইন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলেও হঠাৎ করেই তিনি অভিনয়জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। দীর্ঘদিন পর একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে সেই সিদ্ধান্তের পেছনের কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। কিম জানান, অসুস্থ মা এবং পরিবারের ভয়াবহ আর্থিক সংকটের কারণে তাকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
গত ৩০ জুলাই এমবিএনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘স্পেশাল ওয়ার্ল্ড’-এ অংশ নিয়ে কিম সে-ইন বলেন, ২০০৪ সালে অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করে ২০১১ সালে ‘ওহ মাই গড’ নাটকের মাধ্যমে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের মাঝপথেই ব্যক্তিগত জীবনের নানা সংকট তাকে অভিনয় ছাড়তে বাধ্য করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় তার এজেন্সির প্রধান তাকে বিভিন্ন অনৈতিক পরিবেশে নিয়ে যেতেন এবং মানসিকভাবে চাপে রাখতেন। একই সময়ে তার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা তাকে আরও বিপর্যস্ত করে তোলে।
অভিনেত্রী জানান, তিনি একটি স্বচ্ছল পরিবারে জন্ম নিলেও ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে তাদের আর্থিক অবস্থা একসময় ভয়াবহ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিন কাটানোর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। এমন অবস্থায় পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হন তিনি। মায়ের চিকিৎসা এবং সংসারের ব্যয় মেটাতে তাকে বিভিন্ন ধরনের কাজ গ্রহণ করতে হয়েছে।
কিম বলেন, পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় বহনের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন ছিল। সেই সময় অর্থ উপার্জনের তাগিদে এমন কিছু কাজও করতে হয়েছে, যা নিয়ে তিনি স্বস্তি বোধ করতেন না। এসব সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং পরিবারেও এর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে তার বাবা এসব বিষয়ে খুবই কষ্ট পেয়েছিলেন।
বর্তমানে অভিনয়জগত থেকে দূরে সাধারণ জীবনযাপন করছেন কিম সে-ইন। তিনি এখন পরিত্যক্ত কুকুর, খরগোশ ও মুরগিসহ মোট ১৫টি প্রাণীর দেখাশোনা করেন। তাদের খাবার ও নিজের জীবিকা নির্বাহের জন্য খণ্ডকালীন ফুড ডেলিভারির কাজ করছেন। কিম জানান, দুই বছর আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তার বাবা মারা যান। বাবাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই তিনি এখন প্রাণীগুলোর যত্ন নিচ্ছেন। অন্যদিকে, তার মা প্রায় ১৫ বছর ধরে কোমায় রয়েছেন।
জীবনের নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী কিম সে-ইন। তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রম করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান এবং তার আশ্রয়ে থাকা প্রাণীগুলোর দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত পালন করে যেতে চান।