রামায়ণের কাহিনিতে রাবণ যতটা শক্তিশালী ও অহংকারী শাসক হিসেবে পরিচিত, তাঁর স্ত্রী মন্দোদরী ততটাই বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। সীতাকে অপহরণের পর রাবণকে বারবার তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন মন্দোদরী। কিন্তু স্ত্রীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন লঙ্কার রাজা। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই ডেকে আনে লঙ্কার পতন।

মন্দোদরী ছিলেন অসুরদের কিংবদন্তি স্থপতি ময়াসুর ও অপ্সরা হেমার কন্যা। পরবর্তী সময়ে রাবণের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের ছেলে মেঘনাদ, যিনি ইন্দ্রজিৎ নামেও পরিচিত। রামায়ণের অন্যতম শক্তিশালী যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

সীতাকে অপহরণের পর মন্দোদরী রাবণকে তাঁকে ফিরিয়ে দিয়ে রামের সঙ্গে যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এই সিদ্ধান্ত লঙ্কার জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কিন্তু রাবণ তাঁর কথা না শোনায় শেষ পর্যন্ত রাম ও রাবণের যুদ্ধে লঙ্কার পতন ঘটে।

আধুনিক সময়ের বিভিন্ন সাহিত্যিক পুনর্কথনেও মন্দোদরীর প্রজ্ঞা, মানসিক টানাপোড়েন ও নীরব কষ্টের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। আনন্দ নীলকান্তনের ‘অসুর’ উপন্যাসেও রাবণের দৃষ্টিকোণ থেকে রামায়ণের প্রচলিত কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।

এবার বড় পর্দায় মন্দোদরীর চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেত্রী কাজল আগরওয়ালকে। নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত ‘রামায়ণ’-এ রাবণের ভূমিকায় রয়েছেন যশ। ২০২৫ সালে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মন্দোদরীর চরিত্রের জন্য লুক টেস্ট দেওয়ার পাশাপাশি যশের সঙ্গে শুটিংও শুরু করেছিলেন কাজল।

চরিত্রটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মন্দোদরীর প্রচলিত সৌম্য ও বিচক্ষণ রূপের সঙ্গে কাজলকে মানানসই মনে করেননি কেউ কেউ। তবে চরিত্রের প্রস্তুতি নিতে মন্দোদরীকে নিয়ে বিভিন্ন বই পড়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর ছোট ছেলেও রামায়ণের কাহিনি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখে এবং বাড়িতে ছোট পরিসরে রামলীলা মঞ্চস্থ করে বলেও জানিয়েছেন তিনি।