ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু মানেই ছিল সাবেক জাতীয় ফুটবলার Kaiser Hamid-এর বাসায় উৎসবমুখর পরিবেশ। দল নিয়ে তর্ক-বিতর্ক, প্রিয় খেলোয়াড়দের আলোচনা আর দীর্ঘ আড্ডায় জমে উঠত বিশ্বকাপের দিনগুলো। সেই আড্ডার অন্যতম প্রাণ ছিলেন তার মেয়ে Karina Kaiser

তবে এবারের বিশ্বকাপ কায়সার হামিদের পরিবারের জন্য ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে এসেছে। গত ১৫ মে কারিনা কায়সারের মৃত্যু পরিবারকে গভীর শোকে ডুবিয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও অনুভূত হচ্ছে এক বড় শূন্যতা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জ্বর ও সংক্রমণের পর হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় কারিনার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। প্রথমে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এক সাক্ষাৎকারে কায়সার হামিদ জানান, ফুটবল ছিল বাবা-মেয়ের একটি বিশেষ বন্ধন। দুজনই ব্রাজিলের সমর্থক ছিলেন। বিশ্বকাপ এলেই তারা একসঙ্গে খেলা দেখতেন, এমনকি বড় পর্দায় ম্যাচ উপভোগ করতে বিভিন্ন আয়োজনেও অংশ নিতেন।

তিনি বলেন, কারিনা শুধু ফুটবলের ভক্তই ছিলেন না, বাবার ফুটবল ক্যারিয়ারের স্মৃতিগুলোও আগলে রাখতেন। ইন্টারনেটে খুঁজে খুঁজে পুরোনো ম্যাচ ও ভিডিও বের করে তাকে দেখাতেন, যা দুজনের জন্যই ছিল আনন্দের মুহূর্ত।

কায়সার হামিদ আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারিনার জনপ্রিয়তার কারণে অনেক তরুণ তাকে ‘কারিনার বাবা’ হিসেবেও চিনতেন। বিষয়টি তার কাছে গর্বের ছিল।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কারিনা কায়সার পরে অভিনয় ও চিত্রনাট্য রচনাতেও যুক্ত হন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। তবে তার অকালপ্রয়াণ পরিবার, সহকর্মী ও ভক্তদের জন্য রেখে গেছে গভীর শূন্যতা।