নব্বইয়ের দশক থেকে আজ অবধি, ঈদের আনন্দ মানেই বিটিভির পর্দায় ‘ইত্যাদি’। সময়ের আবর্তে দর্শকের রুচি বদলালেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবিচল এই অনুষ্ঠানের নির্মাতা হানিফ সংকেত এবার ভূষিত হচ্ছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ। সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২৬ সালের এই পুরস্কার প্রাপ্তির ঘোষণা আসার পর মিরপুরে তাঁর নিজস্ব কার্যালয়ে এক আড্ডায় উঠে আসে তাঁর দীর্ঘ পথচলার নানা গল্প।
পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে হানিফ সংকেত বলেন, “আমি কখনো প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে খুব বেশি ভাবিনি। চেষ্টা করেছি কাজের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ের কাছে পৌঁছাতে। তবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই সম্মান অবশ্যই আনন্দের। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে যখন দেখেছি সাধারণ দর্শক ও সংস্কৃতিকর্মীরা এই প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।” এই স্বীকৃতিকে তিনি তাঁর আগামীর পথচলার নতুন দায়িত্বের প্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
মিরপুরের ফাগুন অডিও ভিশনের ভেতরে ঢুকলে বোঝা যায় কেন ‘ইত্যাদি’ এত বছর ধরে মান ধরে রেখেছে। প্রতিটি কাজে নিখুঁত শৃঙ্খলা আর আপসহীন গুণগত মানই হানিফ সংকেতের মূল শক্তি। অনুষ্ঠানের পোশাক পরিকল্পনা থেকে শুরু করে গবেষণা, সবকিছুতেই রয়েছে তাঁর নিজস্ব তদারকি। তিনি জানান, ‘ইত্যাদি’র কোনো পর্বে বা নাটকের কস্টিউমে তিনি কখনোই স্পনসর নেন না, কারণ মানের বিষয়ে তিনি কোনো ছাড় দিতে রাজি নন।
স্টুডিওর চার দেয়াল পেরিয়ে দেশের প্রান্তিক জনপদে ‘ইত্যাদি’কে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে থাকে বিশাল কর্মযজ্ঞ। কোনো জেলায় শুটিংয়ের আগে চলে দীর্ঘ পড়াশোনা ও মাঠপর্যায়ের গবেষণা। বইয়ের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা তাঁর শব্দভাণ্ডার ও উপস্থাপনাকে করেছে সমৃদ্ধ। আজও তাঁর প্রেরণার বাতিঘর হয়ে আছেন প্রয়াত ফজলে লোহানী, যাঁর হাত ধরে তাঁর টেলিভিশন যাত্রা শুরু হয়েছিল। বিনোদন ছাড়িয়ে ‘ইত্যাদি’ আজ এক জীবন্ত দলিল, আর তার কারিগর হানিফ সংকেত এখন রাষ্ট্রীয় সম্মানে উজ্জ্বল।