পকেটে জাদুকরী সব গ্যাজেট আর মিষ্টি হাসির এক রোবট বিড়াল, নাম তার ‘ডোরেমন’। ১৯৬৯ সালে প্রখ্যাত জাপানি মান্গা শিল্পী ফুজিও এফ ফুজিওর তুলির আঁচড়ে জন্ম নেওয়া এই চরিত্রটি পার করে ফেলেছে পথচলার দীর্ঘ ৫৩ বছরেরও বেশি সময়। সময়ের সাথে সাথে যুগের পরিবর্তন হলেও বিশ্বজুড়ে শিশুদের পাশাপাশি সব বয়সী দর্শকের কাছে ‘ডোরেমন’-এর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এতটুকুও কমেনি, বরং দিন দিন তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
১০৮ বছর পরের ভবিষ্যৎ অর্থাৎ ২২ শতক থেকে টাইম মেশিনে চড়ে বিংশ শতাব্দীর অলস ও কাঁচা বালক নোবিতা নোবিকে সাহায্য করতে পৃথিবীতে আগমন ঘটেছিল ডোরেমনের। উদ্দেশ্য ছিল নোবিতার ভুলত্রুটি শুধরে দিয়ে তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দেওয়া। ব্যাম্বু কপ্টার থেকে শুরু করে এনিহোয়ার ডোর ডোরেমনের পকেটের একের পর এক অবিশ্বাস্য গ্যাজেট কেবল নোবিতার সমস্যার সমাধানই করেনি, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শিশুর কল্পনাশক্তি ও রূপকথার জগতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
মান্গা দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ১৯৭৩ সালে প্রথম অ্যানিমে সিরিজে রূপ নেয় এই গল্প। এরপর ১৯৮০ সাল থেকে প্রতি বছর নতুন নতুন ফিচার ফিল্ম মুক্তির মাধ্যমে বিনোদন জগতে নিজেদের রাজত্ব কায়েম রেখেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজিসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি ভাষায় ডোরেমন প্রচারিত হয়ে আসছে। নোবিতা, শিজুকা, জিয়ান ও সুনিওর বন্ধুত্বের নিবিড় বন্ধন এবং বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাগুলোই ডোরেমনকে পাঁচ দশক ধরে বিশ্বজুড়ে এক অমর ও কালোত্তীর্ণ অ্যানিমেশনে পরিণত করেছে।