২০১৬ সালের ৮ আগস্ট ‘হুইসেল’ ও ‘বুমবায়াহ’ গান দিয়ে কে-পপের দুনিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেছিল ব্ল্যাকপিংক। দেখতে দেখতে আজ সেই পথচলার এক দশক পূর্ণ করল জিসু, জেনি, রোজে ও লিসাকে নিয়ে গঠিত জনপ্রিয় এই গার্ল গ্রুপ। বিশেষ এই দিনটি চার সদস্য একসঙ্গেই উদ্যাপন করছেন।
দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ভক্তদের সঙ্গে ছোট পরিসরে দেখা করবে ব্ল্যাকপিংক। তবে অনুষ্ঠানের ভেন্যু এখনো গোপন রাখা হয়েছে। সেখানে নির্বাচিত ৪০ জন ভক্তের অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে। দীর্ঘ বিরতির পর দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে ভক্তদের সামনে চার সদস্যকে একসঙ্গে দেখা যাবে। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে সিউলের উপকণ্ঠ গোয়াংয়ে ‘ডেডলাইন’ বিশ্বভ্রমণের একটি কনসার্টে একসঙ্গে মঞ্চে উঠেছিলেন তাঁরা।
মাত্র এক দশকেই বিশ্বসংগীতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে ব্ল্যাকপিংক। একের পর এক জনপ্রিয় গান ও অ্যালবাম উপহার দেওয়ার পাশাপাশি ফ্যাশন, বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ও বিজ্ঞাপনেও চার সদস্যের প্রভাব তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে প্রকাশিত ‘বর্ন পিংক’ অ্যালবামের মাধ্যমে ইতিহাস গড়ে দলটি। এটি কোনো নারী কে-পপ শিল্পীর প্রথম অ্যালবাম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড ২০০-এর শীর্ষে জায়গা করে নেয়। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের অফিশিয়াল অ্যালবাম চার্টেও প্রথম স্থান দখল করে।
দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দলীয় প্রকল্প হিসেবে তৃতীয় ইপি ‘ডেডলাইন’ প্রকাশ করে ব্ল্যাকপিংক। অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০-এ অষ্টম অবস্থানে জায়গা করে নেয়। এর মাধ্যমে দলটি প্রমাণ করে, দীর্ঘ বিরতির পরও বিশ্বজুড়ে তাদের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ব্ল্যাকপিংকের ক্যারিয়ারে আসে নতুন অধ্যায়। চার সদস্য হিসেবে ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে চুক্তি অব্যাহত রাখলেও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য আলাদা পথে হাঁটেন তাঁরা। জেনি নিজের প্রতিষ্ঠান ‘অড অ্যাটেলিয়ার’ প্রতিষ্ঠা করেন, লিসা গড়ে তোলেন ‘লাউড’, জিসু শুরু করেন ‘ব্লিসু’ এবং রোজে যুক্ত হন ‘দ্য ব্ল্যাক লেবেল’-এর সঙ্গে।
একক ক্যারিয়ারেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন চার সদস্য। রোজে ও ব্রুনো মার্সের ‘আপাতে’ গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এর মাধ্যমে এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে ‘সং অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পাওয়া প্রথম কে-পপ শিল্পী হন রোজে।
জেনিও নিজের প্রথম একক অ্যালবাম ‘রুবি’ দিয়ে আলাদা শিল্পী পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। টেম ইমপালার সঙ্গে তাঁর করা ‘ড্রাকুলা’ গানটিও জায়গা করে নেয় বিলবোর্ড হট ১০০-এ। অন্যদিকে জিসু সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়ে নিজের ক্যারিয়ার বিস্তৃত করেছেন। লিসাও গানের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এ। এমনকি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করেছেন তিনি।
এক দশকের পথচলায় দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি চার সদস্যের একক অর্জনও ব্ল্যাকপিংককে বিশ্বসংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী কে-পপ গ্রুপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দশম বছরে এসে ভক্তদের সঙ্গে বিশেষ উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ‘ব্ল্যাকপিংক’।