চলচ্চিত্রের গল্পে অনেক সময় এমন কিছু মুহূর্ত থাকে যা দর্শকদের আবেগকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘লাইফলাইন’ সিনেমার একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে ঠিক তেমনই এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হলো। ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে নিজের অভিনীত সিনেমাটি বড় পর্দায় দেখার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। পর্দায় বাবা ও মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং তাদের মধ্যকার ভালোবাসা মিমকে এতটাই স্পর্শ করেছে যে, অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি কেঁদেই ফেলেন। চলচ্চিত্রে মিমের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ, যিনি নিজেও প্রদর্শনী শেষে কথা বলার সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
পরিচালক কাজী আসাদের এই সিনেমাটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের কাছ থেকে দারুণ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। দর্শকদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন, বিনোদনের পাশাপাশি সমাজে সচেতনতা বাড়াতে এমন জীবনধর্মী ও বাস্তবসম্মত গল্পের সিনেমা আরও বেশি হওয়া উচিত। বিশেষ করে এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পা রাখা জনপ্রিয় অভিনেতা আ খ ম হাসানের চরিত্রটি দর্শকদের মাঝে আলাদাভাবে সাড়া ফেলেছে। নিজের অভিনয় প্রসঙ্গে আ খ ম হাসান জানান, পর্দায় তাঁর চরিত্রটিকে এতটাই বাস্তবসম্মত করা হয়েছে যে দর্শকেরা সেখানে অভিনেতাকে নয়, বরং চরিত্রটিকেই দেখতে পেয়েছেন, আর এটি পুরো টিমের সফলতার প্রমাণ।
সিনেমায় মিমের চরিত্রের নাম অনন্যা, যার এক দুর্গম যাত্রাকে কেন্দ্র করে পুরো গল্পটি আবর্তিত হয়েছে। অনন্যার এই সফরে মোটরসাইকেলে করে তাকে বিভিন্ন লোকেশনে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন অভিনেতা রেজওয়ান পারভেজ। কুয়াকাটার খেতের আল এবং দুর্গম রাস্তায় শুটিং করার অভিজ্ঞতা জানিয়ে রেজওয়ান বলেন, মিমকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াটাই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। অভিনয়ের পাশাপাশি এই চলচ্চিত্রের ‘আমারে নাও’ গানটিও শ্রোতাদের মন জয় করেছে। জাহিদ নিরবের সুর ও সংগীতে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ফাতিমা তুয যাহরা ঐশী, যা সিনেমার আবেগঘন মুহূর্তগুলোকে আরও চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।