বর্তমানে অরিজিৎ সিং মানেই কণ্ঠের দরদ আর আবেগের এক জাদুকরী সংমিশ্রণ। কিন্তু কোটি ভক্তকে মাতোয়ারা করা এই কণ্ঠস্বর মোটেও ঈশ্বরপ্রদত্ত বা অনায়াস ছিল না। বরং নিজের আওয়াজকে বর্তমান রূপ দিতে এক সময় নিজের শরীরের ওপর চরম ধকল ও ‘অত্যাচার’ চালিয়েছিলেন এই শিল্পী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সেই হাড়ভাঙা খাটুনি আর গলার স্বর পরিবর্তনের অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন অরিজিৎ।

গায়ক জানান, পেশাদার জীবনের শুরুতে নিজের গলার স্বর তিনি নিজেই পছন্দ করতেন না। এমনকি সেই সময় সংগীত মহলের অনেকের কড়া সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে। অরিজিতের ভাষায়, তিনি তার কণ্ঠকে একটি স্থাপত্যের মতো তিল তিল করে খোদাই করেছেন। গলার পেশিগুলোকে কাঙ্ক্ষিত ছাঁচে ফেলতে তিনি রেওয়াজের সমস্ত সীমা অতিক্রম করে যেতেন। এমনকি ঘণ্টার পর ঘণ্টা টানা প্র্যাকটিস করতে করতে ক্লান্তিতে এক সময় গলা ভেঙে বসে যেত, তবুও তিনি থামতেন না।

দীর্ঘ ১৫ বছরের সফল ক্যারিয়ারে ‘আশিকী ২’ সিনেমার গান দিয়ে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেলেও এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের এমন কঠোর সাধনা। নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে এবং গলার স্বরে নিখুঁত আবেগ ফুটিয়ে তুলতে তিনি দিনের পর দিন নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়েছেন। আজকের এই ‘অরিজিৎ সিং’ হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে হাজারো রাত জাগা পরিশ্রম আর নিজের কণ্ঠকে নতুন রূপ দেওয়ার অপ্রকাশিত এক সংগ্রাম।