নাসার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে বিজ্ঞানী হিসেবে রকেট উড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন যে কিশোর, আজ তিনি নিজেই বক্সঅফিসের রকেট তিনি অল্লু অর্জুন। পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই দর্শকদের উন্মাদনা, আর ‘ঝুকেগা নেহি’ সংলাপে মেতে ওঠে আসমুদ্র হিমাচল। বুধবার (৮ এপ্রিল) এই স্টাইলিশ সুপারস্টার পা রাখলেন ৪৫ বছরে।

 তামিল সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা অল্লু রামা লিঙ্গাইয়ার নাতি এবং প্রখ্যাত প্রযোজক অল্লু অরবিন্দ এর ছেলে হওয়ায় ছোট থেকেই সিনেমার পরিবেশে বড় হয়েছেন তিনি। তবে কৈশোরে অভিনয়ের চেয়ে বিজ্ঞানের প্রতিই তার আগ্রহ ছিল বেশি। নাসায় কাজ করার স্বপ্নই ছিল তার লক্ষ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্ন বদলে যায়, আর তিনি জড়িয়ে পড়েন লাইট-ক্যামেরা অ্যাকশনের জগতে।

চেন্নাইয়ের St. Patrick's School Chennai থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে হায়দরাবাদের MSR College Hyderabad থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন অল্লু অর্জুন। এরপর অ্যানিমেশন নিয়েও পড়াশোনা শুরু করেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত ক্যামেরার সামনের জগতই তাকে বেশি টানে।

২০০৩ সালে গঙ্গোত্রী ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তার। শুরুতে ‘বানি’, ‘হ্যাপি’, ‘পারাগু’–এর মতো সিনেমায় একেবারে চকোলেট হিরো হিসেবেই নিজেকে উপস্থাপন করেন। তবে আর্যা ২ থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে ভাঙতে শুরু করেন এবং পরে অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে মনোনিবেশ করেন।

না পেরু সুরিয়া ছবির সময় থেকেই তিনি ‘সুপারস্টার’ তকমা পেতে শুরু করেন। আর ২০২০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলা বৈকুণ্ঠপুরামুলো–এর মাধ্যমে দক্ষিণ ভারত ছাড়িয়ে গোটা দেশে পরিচিতি পান, হয়ে ওঠেন প্যান ইন্ডিয়া তারকা। এরপর পুষ্পা দ্য রাইজ তার ক্যারিয়ারে নতুন উচ্চতা এনে দেয়, বক্সঅফিসে গড়ে তোলে একের পর এক রেকর্ড।

ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমানে তিনি ব্যস্ত তার নতুন প্রজেক্ট ‘এএ২২×এ৬’ এর প্রস্তুতি নিয়ে। ভক্তদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী বছরের এপ্রিলে নতুন রূপে বড়পর্দায় হাজির হওয়ার কথা রয়েছে তার।

বংশ পরম্পরায় অভিনয়ের ধারাবাহিকতা আজ তার হাতেই উজ্জ্বল। ছোট ভাই অল্লু শিরিষ ও একই পথে হাঁটছেন। বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও, সিনেমার মহাবিশ্বে অল্লু অর্জুন যে আজ উজ্জ্বলতম নক্ষত্র তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।