টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করে চলেছে ফক্স ব্রডকাস্টিং কোম্পানির অ্যানিমেটেড সিটকম ‘The Simpsons’। ম্যাট গ্রোনিংয়ের সৃষ্টি এই কার্টুন সিরিজটি কেবল একটি সাধারণ বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং আধুনিক পপ সংস্কৃতির এক অনন্য মাইলফলক। বিশ্বজুড়ে এর বিশাল জনপ্রিয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিখুঁত কিছু ধারণা বা ভবিষ্যদ্বাণীর কারণে এটি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা ও নতুন পর্ব

১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে আত্মপ্রকাশ করার পর থেকে অমরত্ব লাভ করেছে স্প্রিংফিল্ড শহরের সিম্পসন পরিবার হোমার, মার্জ, বার্ট, লিসা আর ম্যাগি। দীর্ঘ পথচলায় এই সিরিজটি ভেঙেছে বহু রেকর্ড। এর অসামান্য চিত্রনাট্য, তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যঙ্গ এবং হাস্যরসের কারণে এটি অসংখ্য 'এমি অ্যাওয়ার্ড' অর্জন করেছে।

ভক্তদের জন্য সুখবর হলো, শোটির জনপ্রিয়তা ও আবেদন এতটুকুও কমেনি। এর ধারাবাহিকতায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফক্স সম্প্রতি সিরিজটির ৩৮তম মৌসুমের (Season 38) প্রিমিয়ার সম্পন্ন করেছে, যা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে নিয়মিত সম্প্রচার করা হচ্ছে। আজও প্রতি সপ্তাহে নতুন নতুন পর্ব নিয়ে হাজির হয়ে দর্শকদের বিনোদন দিয়ে যাচ্ছে এই কালজয়ী অ্যানিমেশন।

কোন কোন ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছে?

The Simpsons’-এর লেখকরা বহু বছর আগে যেসব আজব বা অবাস্তব দৃশ্য স্ক্রিপ্টে রেখেছিলেন, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি বাস্তবে মিলে যাওয়ায় বিশ্ববাসী অবাক হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত কিছু ভবিষ্যদ্বাণী হলো:

১. ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়া: ২০০০ সালের একটি পর্বে (Bart to the Future) দেখানো হয়েছিল লিসা সিম্পসন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন এবং তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি দায়িত্ব হিসেবে পেয়েছেন। ১৬ বছর পর ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প সত্যি সত্যিই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে বিষয়টি ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড় তোলে। ২. ডিজনির দ্বারা ফক্স অধিগ্রহণ: ১৯৯৮ সালের একটি পর্বে দেখানো হয়েছিল 'টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স' কোম্পানিটি ওয়াল ডিজনি কোম্পানির একটি বিভাগ হিসেবে কাজ করছে। এর প্রায় ১৯ বছর পর ২০১৭ সালে ডিজনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফক্স স্টুডিও কিনে নেয়। ৩. হিগস বোসন কণা (God Particle) আবিষ্কার: ১৯৯৮ সালের এক পর্বে হোমরের লেখা একটি গণিত সমীকরণ পদার্থবিজ্ঞানের জটিল ‘হিিগস বোসন’ কণার ভরের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিলে যায়, যা বিজ্ঞানীরা ২০১২ সালে আবিষ্কার করেন। ৪. লেডি গাগার সুপার বোল পারফরম্যান্স: ২০১২ সালের একটি পর্বে পপ তারকা লেডি গাগাকে আকাশে ক্যাবল দিয়ে ঝুলিয়ে কনসার্ট করতে দেখা যায়। ঠিক তার পাঁচ বছর পর ২০১৭ সালের সুপার বোল হাফটাইম শোতে লেডি গাগা প্রায় হুবহু একইভাবে আকাশ থেকে নিচে নেমে পারফর্ম করেন। ৫. স্মার্টওয়াচ ও ভিডিও কল: নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে ঘড়িতে কথা বলা বা ভিডিও কল দেওয়ার প্রযুক্তি কাল্পনিক মনে হলেও বর্তমানে তা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

আগামীর জন্য কী কী ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে?

সামনের দিনগুলোতে বা ভবিষ্যতের জন্য শোটির বিভিন্ন পর্বে বেশ কিছু চমকপ্রদ ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ভক্তদের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

  • উড়ন্ত গাড়ি ও হাইপারলুপ ট্রান্সপোর্ট: ভবিষ্যতের পৃথিবী হিসেবে বিভিন্ন পর্বে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং আকাশে উড়ে চলা গাড়ির বহুল ব্যবহার দেখানো হয়েছে।
  • মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপন: ভবিষ্যতে মানুষের মহাশূন্য ভ্রমণ এবং মঙ্গল গ্রহে দীর্ঘমেয়াদী কলোনি গড়ার বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
  • সম্পূর্ণ রোবটচালিত পৃথিবী: ভবিষ্যতের এপিসোডগুলোতে মানুষের দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে শ্রমবাজারের বড় একটা অংশ রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ন্ত্রণ করবে এমন এক দৃশ্যপট ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
কেন মিলে যায় এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো?

শোটির প্রবীণ লেখকদের মতে, এর পেছনে কোনো অলৌকিক ব্যাপার নেই। দীর্ঘ ৩০-এর অধিক বছর ধরে সমাজের বর্তমান প্রবণতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ করে লেখকরা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রূপটি কেমন হতে পারে, তার একটি অতিশয় অতিরঞ্জিত বা হাস্যরসাত্মক চিত্র তুলে ধরেন। আর তাতেই কাকতালীয়ভাবে বা বাস্তবতার সুবাদে অনেক কিছু মিলে যায়।

দিনশেষে ‘দ্য সিম্পসনস’ কেবল বিনোদনই দেয় না, বরং আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার এক নিপুণ আয়না হিসেবে আগামী দিনের পথ চেনার সংকেতও দিয়ে যায়। মার্কিন সিনেটর Abdul El-Sayed নিয়েও কি আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল The Simpsons? বিস্তারিত পরবর্তী নিউজে