মাত্র ২৫ বছর বয়সেই দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন মমিতা বাইজু। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাওয়া তাঁর অভিনীত তিন সিনেমাই বক্স অফিসে সফল হয়েছে। সিনেমা তিনটির সম্মিলিত আয় ছাড়িয়ে গেছে ৯০০ কোটি রুপি। এর মধ্যে একটি সিনেমা মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ডও গড়েছে।

২৩ জুলাই মুক্তি পায় এইচ বিনোদের তামিল সিনেমা ‘জন নয়াগণ’। থালাপতি বিজয়ের ক্যারিয়ারের শেষ সিনেমা হিসেবে আলোচিত এই ছবিটি মুক্তির আগেই অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। তারপরও বিশ্বব্যাপী ৩২০ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে সিনেমাটি। বিজয় ও পূজা হেগড়ের সঙ্গে এতে অভিনয় করেছেন মমিতা বাইজু।

এরপর ১৪ আগস্ট মুক্তি পায় ভেঙ্কি আতলুরির তামিল সিনেমা ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সনস’। রোম্যান্টিক-ফ্যামিলি ড্রামা ঘরানার এই সিনেমা দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী এর আয় ছাড়িয়েছে ২৫০ কোটি রুপি। সিনেমাটিতে সুরিয়ার সঙ্গে মমিতার অসম বয়সের প্রেমের রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে।

এর এক সপ্তাহ পর, ২১ আগস্ট মুক্তি পায় মমিতার আরেক সিনেমা ‘বেথলেহেম কুডুম্বা ইউনিট’। গিরিশ এ. ডি. পরিচালিত মালয়ালম সিনেমাটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছে। প্রায় ৩৩০ কোটি রুপি আয় করে এটি মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। রোম্যান্টিক-কমেডি ঘরানার ছবিটিতে নিভিন পলির সঙ্গে মমিতার জুটি দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।

টানা সাফল্যের কারণে মমিতা এখন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম আলোচিত তরুণ তারকা। মিষ্টি হাসি ও প্রাণবন্ত অভিনয়ের মাধ্যমে খুব অল্প সময়েই দর্শকের কাছে আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।

২০০১ সালের ২২ জুন কেরালার কোট্টায়াম জেলার কিডাঙ্গুরে জন্ম মমিতার। তাঁর বাবা একজন চিকিৎসক। বাবা-মায়ের পাশাপাশি বড় ভাই মিথুনকে নিয়ে তাঁর পরিবার। কোচির স্যাক্রেড হার্ট কলেজে সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করলেও তৃতীয় বর্ষে গিয়ে পড়াশোনা থেকে সরে আসেন তিনি।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে মালয়ালম সিনেমা ‘পাভাদা’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হয় মমিতার। শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু করার পর আরও কয়েকটি সিনেমায় পার্শ্ব ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘খো খো’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে প্রথম বড় ধরনের নজর কাড়েন তিনি। এই সিনেমার জন্য পার্শ্ব চরিত্রে কেরালা ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডও পান।

২০২৪ সালে ‘প্রেমালু’ সিনেমার মাধ্যমে ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে। গিরিশ এ. ডি. পরিচালিত মাত্র ৯ কোটি রুপি বাজেটের রোম্যান্টিক সিনেমাটি বক্স অফিসে ১৩৬ কোটি রুপি আয় করে। একই বছর ‘রেবেল’ দিয়ে তামিল সিনেমায় অভিষেক হয় তাঁর।

এরপর গত বছরের অক্টোবরে মুক্তি পাওয়া তামিল সিনেমা ‘ড্যুড’ও বক্স অফিসে সাফল্য পায়। মাত্র ৩০ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটি আয় করে ১১০ কোটির বেশি। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে মুক্তি পাওয়া ‘কারা’ ব্যবসায়িকভাবে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

একটি ব্যর্থতার পরই যেন ঘুরে দাঁড়িয়েছে মমিতার ক্যারিয়ার। পরপর তিনটি সফল সিনেমার মাধ্যমে এখন দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের জন্য তৈরি করেছেন শক্ত অবস্থান। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই এমন ধারাবাহিক সাফল্য তাঁকে সম্ভাবনাময় তারকা হিসেবে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।