২০০০-এর দশকের শুরু থেকে ২০১০ এই সময়টা যাদের শৈশব বা কৈশোর কেটেছে, তাদের বিকেলে টিভি স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা কিংবা পড়ার টেবিল থেকে চুরি করে কমিক বই বা এনিমে দেখার স্মৃতি আজও ভীষণ তাজা। একপাশে কার্টুন নেটওয়ার্কের দুরন্ত বালক ‘বেন ১০’ (Ben 10), আর অন্যদিকে জাপানি এনিমে জগতের কালজয়ী নায়ক ‘নারুতো’ (Naruto)। ঘড়ির মতো দেখতে এক ভিনগ্রহের ডিভাইস আর শরীরের ভেতরের ‘চক্র’ (Chakra) শক্তি এই দুই ধারণাই আমাদের কল্পনাশক্তিকে এক অন্য জগতে নিয়ে গিয়েছিল। আজ ফিরে দেখা যাক সেই দুই কালজয়ী শোর সেরা ও জনপ্রিয় চরিত্রগুলোকে, যা আজও আমাদের স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল!

‘বেন ১০’-এর সেরা ভিনগ্রহী ও স্মরণীয় চরিত্র:

  • বেন টেনিসন (Ben Tennyson): ১০ বছর বয়সী এক সাধারণ বালক, যে বনের মধ্যে খুঁজে পায় ‘Omnitrix’ নামের এক জাদুকরী ঘড়ি। তার সাহসিকতা আর একটু বোকামি মেশানো কৌতুক আজও মুখে হাসি ফোটায়।

  • হিটব্লাস্ট (Heatblast): প্রথমার্ধেই দেখা মেলা আগুনের তৈরি এই এলিয়েনটি ছিল বেন ১০-এর প্রথম রূপান্তর। যার শরীর থেকে আগুন ছড়ানোর দৃশ্যগুলো বাচ্চাদের শিহরিত করত।

  • চার্মকাস্টার ও ডায়মন্ডহেড (Diamondhead): স্ফটিকের তৈরি ধারালো শরীর আর ঢাল হিসেবে ব্যবহারের ক্ষমতার কারণে ডায়মন্ডহেড ছিল অন্যতম জনপ্রিয় এলিয়েন।

  • ফোর আর্মস (Four Arms): লাল রঙের চার হাতওয়ালা এই শক্তিধর এলিয়েনের ফাইটগুলো দেখা ছিল তখনকার শিশুদের কাছে দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ।

  • ভিলগ্যাক্স (Vilgax): পুরো মহাবিশ্বের খলনায়ক, যে অমনিট্রিক্স ছিনিয়ে নিতে চায়। তার উপস্থিতিতেই পর্বে নেমে আসত টানটান উত্তেজনা।

‘নারুতো’র সেরা ও আইকনিক চরিত্র:

  • নারুতো উজুমাকি (Naruto Uzumaki): অনাথ এক বালক, যার শরীরে বন্দি নয় লেজওয়ালা দানব ‘নাইন-টেইলস’ (Kurama)। গ্রামে সবাই তাকে অবহেলা করলেও ‘হোকাগে’ হওয়ার স্বপ্নে তার নিরন্তর লড়াই আমাদের শিখিয়েছে কখনো হাল না ছাড়তে।

  • সাসকে উচিহা (Sasuke Uchiha): দলের শীতল ও প্রতিভাবান সদস্য। পরিবারের প্রতিশোধের নেশায় তার অন্ধকার জগতের দিকে হেঁটে যাওয়া আর নারুতোর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ও দ্বন্দ্ব ছিল পুরো সিরিজের প্রাণ।

  • কাকাসি হাতাকে (Kakashi Hatake): এক চোখ ঢাকা, মুখে মাস্ক এবং হাতে ‘চিদোরি’ (Chidori) ক্ষমতা থাকা এই শিক্ষক ছিলেন শৈশবের সবচেয়ে কুল (Cool) চরিত্রগুলোর একটি।

  • ইটাচি উচিহা (Itachi Uchiha): পুরো এনিমে জগতের অন্যতম ট্র্যাজিক ও শক্তিশালী চরিত্র। ভিলেন থেকে মহৎ এক ভাই হিসেবে তার আত্মত্যাগের গল্প অনেক দর্শকের চোখে পানি এনেছে।

আজ হয়তো শৈশবের সেই বিকেলগুলো আর নেই, নেই স্কুল থেকে ফিরেই টিভির রিমোট কাড়াকাড়ি করার দিনগুলো। কিন্তু অমনিট্রিক্স ডায়াল ঘুরিয়ে ‘It's Hero Time!’ বলা কিংবা হাতে কাল্পনিক চক্র তৈরি করে ‘রাসেনগান’ (Rasengan) মারার অভিনয় করার স্মৃতিগুলো আজও আমাদের সেই সবুজ সোনালী শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।